
মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড ভেওলা ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিল আইএসডিই বাংলাদেশ।
আবদুর রহমান কক্সবাজার মহেশখালী থেকে।
কক্সবাজারে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ৫ হাজার পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করছে আইএসডিই বাংলাদেশ। এ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বুধবার (১২ আগষ্ট) বিকালে মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড ভেওলা ইউনিয়নের ৫১০ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (KSrelief) অর্থায়নে পরিচালিত এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আইএসডিই বাংলাদেশ। আয়োজকদের মতে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে এ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৭ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি চিনি এবং ১ কেজি লবণ সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য প্যাকেজ দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট মোকাবিলায় এ সহায়তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
পূর্ব বড ভেওলা ইউনিয়নে আয়োজিত বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন রশিদ চৌধুরী, পূর্ব বড ভেওলা ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান অানোয়ারুল অারিফ দুলাল, শ্রমিক নেতা মাহফুজুর রহমান এনাম, ইউপি সদস্য রাহেলা বেগম, জনুয়ারা বেগম, বুলবুল জন্নাত ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
আইএসডিই বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্মসুচী সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দীন
অনুষ্ঠানে আনোয়ারুল আরিফ দুলাল বলেন, বন্যা দুর্গত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আই এসডিই খাদ্য সহায়তা বিতরন করছে। পূর্ব বড ভেওলা ইউনিয়নের বন্যা দুর্গত মানুষদের সহায়তার জন্য তিনি আইএসডিইকে ধন্যবাদ জানান।
পূর্ব বড ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন রশিদ চৌধুরী বলেন, বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এ ধরনের মানবিক সহায়তা তাদের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করবে। দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আইএসডিই বাংলাদেশের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
আইএসডিই বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা পর্যায়ক্রমে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
খাদ্য সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা। তাঁদের ভাষ্য, বন্যায় ঘরবাড়ি ও জীবিকার ক্ষতি হওয়ায় পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল। এই খাদ্য সহায়তা তাঁদের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং কিছুদিনের জন্য হলেও দুশ্চিন্তা কমাবে।
আইএসডিই বাংলাদেশ জানায়, কেএসরিলিফের সহায়তায় পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় হোস্ট কমিউনিটির বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল, বন্যাকবলিত এলাকা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ প্রায় ৬০ হাজার সুবিধাভোগীর মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে থেকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।