প্রিন্ট এর তারিখঃ May 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 4, 2026 ইং
দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই বন্ধ: সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল রয়েছে। এ সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী Nasrul Hamid (প্রাসঙ্গিক দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য)।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সরকারি সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনাতেও। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো দোকানপাট ও শপিংমলের সময়সীমা নির্ধারণ
মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় অত্যন্ত জরুরি। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে কিছুটা ছাড় দিতে হবে। দোকানপাট দ্রুত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।”
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়
বৈঠক শেষে দোকান ও শপিংমল মালিক সমিতির নেতারা জানান, তারা সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা
তবে ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরকার সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করবে। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকার অফিস সময় কমিয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে বাজার ও শপিংমলের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এখনো সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি চালানো হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের পর খোলা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে, যা সামগ্রিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
নতুন সময়সীমার কারণে নগর জীবনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সন্ধ্যার পর কেনাকাটার সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকেই দিনের বেলায় বাজার করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে দেশের স্বার্থে এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল থাকছে। পরিস্থিতি উন্নতির ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে সময়সীমা শিথিল করা হবে কি না।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ 69Bangla Tv