ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের শপথ: বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রীর নতুন অধ্যায় শুরু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 19, 2026 ইং
তারেক রহমানের শপথ: বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রীর নতুন অধ্যায় শুরু ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমানের শপথ: বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রীর নতুন অধ্যায় শুরু
ad728
তারেক রহমানের শপথ: বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রীর নতুন অধ্যায় শুরু

বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় আয়োজিত এক উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার শপথ নেন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের বাইরে জনসম্মুখে প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের সুযোগ পায়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপিসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তারেক রহমান দুটি সংসদীয় আসনে বিজয়ী হন এবং পরবর্তীতে বগুড়া আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন।
রাজনৈতিক পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন
১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান বাংলাদেশের এক পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর পুত্র এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর একমাত্র ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।
তারেক রহমান ১৯৯৪ সালে ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
ছাত্রজীবন ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা
তারেক রহমান প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এ আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়ন করেন। আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।
২০০১ সালের নির্বাচনের পর তিনি বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
গ্রেপ্তার, নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তন
২০০৭ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় ১৮ মাস কারাবাসের পর ২০০৮ সালে মুক্তি পান। পরে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি দলীয় কার্যক্রমে ভার্চুয়ালি সম্পৃক্ত ছিলেন।
২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় তিনি সরকারবিরোধী অবস্থান থেকে বিভিন্ন বক্তব্য দেন, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর পদত্যাগ দাবিও ছিল।
দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। সেদিন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ তাকে স্বাগত জানান দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
সামনে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
শপথ গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাই হবে তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশের জনগণ এখন স্থিতিশীলতা ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা তাই দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : A H M Hafizul Bari

কমেন্ট বক্স
*বনানীতে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িতে বাসের ধাক্কা, চালক গ্রেপ্তার*

*বনানীতে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িতে বাসের ধাক্কা, চালক গ্রেপ্তার*