ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: নারায়ণগঞ্জে পরাজিত প্রার্থীদের বাড়িতে যাননি বিজয়ীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটি আসনে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিজয়ী প্রার্থীদের কেউই পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাড়িতে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি—যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাধারণত নির্বাচন শেষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বাসায় গিয়ে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এবার নারায়ণগঞ্জের কোনো আসনেই বিজয়ীদের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ দেখা যায়নি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে শপথ নিলেও এ ধরনের প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হয়নি।
রূপগঞ্জে ব্যতিক্রমী দৃশ্য
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু) ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা, যিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। বিজয়ের পর দিপু ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়িতে না গেলেও উল্টো সৌজন্যের নজির স্থাপন করেন পরাজিত প্রার্থী আনোয়ার মোল্লা। তিনি দিপু ভূঁইয়ার বাড়িতে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অন্য আসনগুলোর চিত্র
নারায়ণগঞ্জ-2 (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লা পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৪ ভোট। নির্বাচন শেষে তাদের মধ্যে কোনো সৌজন্য সাক্ষাতের খবর পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। এখানেও নির্বাচন-পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাতের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও এনসিপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনির হোসেন কাসেমী। শপথ নেওয়ার পর তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব নেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যদিও পরাজিত প্রার্থীরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির এডভোকেট আবুল কালাম চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন। এখানেও নির্বাচন-পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাতের কোনো নজির পাওয়া যায়নি।
অতীতের দৃষ্টান্ত
যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন চর্চা এবার দেখা যায়নি, স্থানীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে সৌজন্য সাক্ষাতের উদাহরণ রয়েছে। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সেলিনা হায়াৎ আইভী পরাজিত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান-এর বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। একইভাবে ২০২২ সালেও পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার-এর বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে বিজয়ী প্রার্থীদের এমন উদ্যোগ না দেখা গেলেও রূপগঞ্জে পরাজিত প্রার্থীর শুভেচ্ছা বিনিময় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
A H M Hafizul Bari