মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব সর্বনিম্নে, বাড়তি প্রত্যাশা অপূর্ণ
২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে পরবর্তী সময়ে সেই ঘোষণা আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে ভালো ফল করলেও মন্ত্রিসভায় জেলার প্রতিনিধিত্ব নেমে এসেছে মাত্র দুজনে—যা গত সাড়ে চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এবার চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া দুজন হলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর ও পতেঙ্গা) আসন থেকে নির্বাচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। অপরদিকে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১২টিতে জয় পায় বিএনপি। আরও দুটি আসনে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা ছিল, মন্ত্রিসভায় জেলার প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব থাকলেও দক্ষিণ জেলা থেকে কেউ স্থান পাননি।
অতীতের তুলনায় বড় পতন
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় চট্টগ্রাম থেকে সর্বাধিক প্রতিনিধিত্ব ছিল মন্ত্রিসভায়। সে সময় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াও এম মোরশেদ খান, এল কে সিদ্দিকী ও আবদুল্লাহ আল নোমান মন্ত্রী হন। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হন মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও জাফরুল ইসলাম চৌধুরী; হুইপ হন ওয়াহিদুল আলম।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে চারজন স্থান পান। এর মধ্যে তথ্যমন্ত্রী ছিলেন হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী হন মহিবুল হাসান চৌধুরী। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান) ও ওয়াসিকা আয়শা খান (অর্থ)।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (পানিসম্পদ), হাছান মাহমুদ (পররাষ্ট্র) ও সাইফুজ্জামান চৌধুরী (ভূমি)। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদে বন ও পরিবেশমন্ত্রী ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ছিলেন মোশাররফ হোসেন এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন নুরুল ইসলাম। ২০০৮ সালেও চট্টগ্রাম থেকে হাছান মাহমুদ, আফসারুল আমিন ও দিলীপ বড়ুয়া মন্ত্রিসভায় ছিলেন।
এর আগে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী হন অলি আহমদ, আবদুল্লাহ আল নোমান ও এ এম জহিরুদ্দিন খান। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির আমলে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
হতাশা ও প্রত্যাশা
মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, মন্ত্রিসভার আকার ছোট হওয়ার কারণেই হয়তো এবার মাত্র দুজন স্থান পেয়েছেন। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়লে চট্টগ্রামকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনির্ভর অর্থনীতির কেন্দ্র চট্টগ্রাম, যেখানে দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ রপ্তানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের আগে নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে এক জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে কেবল চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের অর্থনীতি চাঙা হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এখন দেখার বিষয়, সীমিত প্রতিনিধিত্ব নিয়েও চট্টগ্রামের সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।
A H M Hafizul Bari