ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় তীব্র জ্বালানি সংকট, পাম্পে পাম্পে অভিযান, হতাশ হয়ে ফিরছেন চালক ও আরোহীরা।

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 29, 2026 ইং
কুমিল্লায় তীব্র জ্বালানি সংকট, পাম্পে পাম্পে অভিযান, হতাশ হয়ে ফিরছেন চালক ও আরোহীরা। ছবির ক্যাপশন: কুমিল্লায় তীব্র জ্বালানি সংকট, পাম্পে পাম্পে অভিযান, হতাশ হয়ে ফিরছেন চালক ও আরোহীরা।
ad728
কুমিল্লায় তীব্র জ্বালানি সংকট, পাম্পে পাম্পে অভিযান, হতাশ হয়ে ফিরছেন চালক ও আরোহীরা।

কুমিল্লা শহর ও জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট এখন ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র ভোগান্তিতে তৈরি করেছে। পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে প্রতিদিনই হতাশ হয়ে ফিরছেন চালক ও আরোহীরা। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে এ সংকট ক্রমবর্ধমান ভাবে বাড়ছেই। চলমান এ সংকটের কারণে সরবরাহের অভাব, সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করার ঘটনায় প্রশাসন অবশেষে মাঠে নেমেছে। জ্বালানি তেল মজুতে রেখে সংকট সৃষ্টি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে একাধিক ফিলিং স্টেশনে তদারকি অভিযান চালানো হয়। 
এরই অংশ হিসেবে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় একটি পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
জ্বালানি তেল মজুতে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরিসহ নানা অনিয়মের অপরাধে কুমিল্লা নগরীর মেসার্স নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। শনিবার ২৮ মার্চ বিকেলে নগরীর তেলিকোনায় অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় ওই পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষকে এ আর্থিক জরিমানা করা হয়। কুমিল্লা সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। 
অভিযান শেষে তিনি বলেন, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার মেসার্স জান্নাত ফিলিং স্টেশন, মেসার্স নাইমুল ফিলিং স্টেশন, মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশন, মেসার্স ইষ্টার্ণ সি.এন.জি ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশন তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার মধ্যে অবৈধভাবে মজুত করে তেলের কৃত্রিম সংকট যাতে কেউ তৈরি করতে না পারে, সেজন্য দৈনন্দিন তেলের মজুতের সাথে স্টক রেজিস্ট্রারে সংরক্ষিত তথ্য এবং প্রেরিত তথ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কিনা, পরিমাপে কম দেয়া হয় কিনা তার কিছুই দেখাতে না পারায় মেসার্স নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে, পুরো কুমিল্লায় জ্বালানি তেলের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ফিলিং স্টেশন এখন তেলের তীব্র ঘাটিতে রয়েছে, যার ফলে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চালক ও যাত্রীদের দৈনন্দিন চলাচল কঠিন হয়ে উঠেছে; সকাল থেকে পাম্পে ঘুরেও অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন। ডিজেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও অকটেন ও পেট্রোলের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে পরিবহন খাতে।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে আগের মতো নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যায় না। দুই থেকে তিন দিন পরপর মাত্র ২-৩ হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা একটি পাম্পের স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।
সংকটকে ঘিরে সিন্ডিকেটের অভিযোগও উঠেছে। তেলের সরবরাহ কম হওয়ার সুযোগ নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দামে বিক্রি বা মজুতের প্রবণতা দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুগুণ বেড়েছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে কুমিল্লায় জ্বালানি তেলের এই সংকট শুধুমাত্র সরবরাহের অভাবে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনিয়ম, সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং তদারকির ঘাটতি। প্রশাসন নিশ্চিত করছে, যারা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করবে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : A H M Hafizul Bari

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার