১৬২ আসনবিশিষ্ট এই উদ্বোধনী ফ্লাইটের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. সাফিকুর রহমান। ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটিই হবে ঢাকা-করাচি রুটে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রুট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের যাত্রী চলাচল ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে।
বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করবে এবং প্রায় তিন ঘণ্টার সরাসরি যাত্রা শেষে করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। প্রথম ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও সফরসঙ্গী থাকবেন।
সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং পারিবারিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ) জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশকে নির্ধারিত আকাশসীমা ও রুট কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং করাচি বিমানবন্দরে এই ফ্লাইটের জন্য নির্দিষ্ট ‘স্লট’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট পরিচালনার নিরাপত্তা ও অপারেশনাল সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্য আগেভাগেই করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। দুই দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সরাসরি আকাশপথ দীর্ঘদিনের যাতায়াতজনিত ভোগান্তি কমাবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হলেও কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং কার্গো পরিবহন চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী লাহোর ও ইসলামাবাদ রুটেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এই রুট পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশকে ঢাকা-করাচি রুট ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
Mehedi Hasan