ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ॥ ফাঁকা গুলিবর্ষণ ॥ আহত ২০

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 28, 2026 ইং
পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ॥ ফাঁকা গুলিবর্ষণ ॥ আহত ২০ ছবির ক্যাপশন: পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ॥ ফাঁকা গুলিবর্ষণ ॥ আহত ২০
ad728
 পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ॥ ফাঁকা গুলিবর্ষণ ॥ আহত ২০

নূরনবী, রূপগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয়পক্ষের ২০জন আহত হয়েছে। শ্রমিক ছাটাঁই, শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ও তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবীতে গতকাল ২৮ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ৮টায় শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের মৈকুলী এলাকায় অবরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। সংঘর্ষে শ্রমিক, পথচারী ও ৭ পুলিশসহ ২০জন আহত হয়েছে। আহতদের নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতে পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকরা জানায়, রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড গত ডিসেম্বর থেকে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসসহ ৩ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। মালিকপক্ষ বেতন দেই দিচ্ছি বলে টালবাহানা করছে। শ্রমিকরা পাওনা বকেয়া বেতনের দাবি করলে কিংবা নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে তাদের ছাঁটাই করছে মালিকপক্ষ। প্রতিবাদ করায় কারখানার ডাইং এন্ড ফিনিশিং সেকশনের শ্রমিক সজীব মিয়াকে বেধরক মারপিট করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল ২৮ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ৮টায় কাজে যোগ না দিয়ে শ্রমিকরা কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মৈকুলী এলাকায় অবরোধ করে। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। অবরোধে যাতে অংশ নিতে না পারে সেই জন্য অন্য শ্রমিকদের কারখানার ভেতরেই আটকে রাখা হয়। এ নিয়ে কারখানার ভেতরে এবং বাইরের শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সকাল ১০টার দিকে পুনরায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় কাঁচপুর থেকে আধুরিয়া পর্যন্ত মহাসড়কের উভয়দিকে প্রায় ২০কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হয়। তাতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। রোগীবহনকারী এ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকা পড়ে। 
রূপগঞ্জ থানা ওসি মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও  শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করেন। এসময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। মহাসড়কের পাশের বালির স্তুপ থেকে বালি পুলিশের চোখে-মুখে ছুঁড়ে দেয়। উপান্তর না দেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ছয় রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসময় উত্তেজত শ্রমিকেরা কারখানার ভবনের জানালার কাঁচ ও মহাসড়কের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এসময় মহাসড়কের কয়েকটি বাস, ট্রাক, অটোরিক্সাসহ ৮/১০টি যানবাহন ভাংচুর করা হয়।   
রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা দুপুর দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাইকিং করে শ্রমিকদের মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়া জন্য আহব্বান জানায়। একইসঙ্গে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ যৌথভাবে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে দেন।  
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু ও রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। 
কারখানার জেনারেল ম্যানেজার শরীফ আহমেদ বলেন, নানা প্রতিকূলতায় শ্রমিকদের পাওনা ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঈদের আগেই তাদের সকল পাওনাদী পরিশোধ করার কথা ছিলো। কিন্তু শ্রমিকরা হঠাৎ করে আন্দোলনে নেমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে।  
নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিকরা আছে বলেই আমাদের এই শিল্প কারখানা বেঁচে আছে। তাই শ্রমিক বেঁচে থাকলেই শিল্প কলকারখানা বেঁচে থাকবে। কোন শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন করা হবে না। পরে কারখানার মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পর্যায়ক্রমে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ায়। পরে সড়কের উভয়দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য কারখানার মালিক নুরুল হক মোহন বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বর্তমানে আতগোপনে রয়েছেন। কারখানায় তিন সহস্রাধিক শ্রমিক কর্মচারী রয়েছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : A H M Hafizul Bari

কমেন্ট বক্স
শপথের পরই চন্দ্রিমা উদ্যানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধ

শপথের পরই চন্দ্রিমা উদ্যানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধ