ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও অবৈধ স্থাপনার কারণে চরম মানবিক সংকট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও অবৈধ স্থাপনার কারণে চরম মানবিক সংকট ছবির ক্যাপশন: জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও অবৈধ স্থাপনার কারণে চরম মানবিক সংকট
ad728
 জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও অবৈধ স্থাপনার কারণে চরম মানবিক সংকট 


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সস্তাপুর গাবতলার মোড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও অবৈধ স্থাপনার কারণে চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি জমে গিয়ে পুরো এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু,এক পর্যায়ে মুরুব্বিরা আলোচনার সাপেক্ষে জানতে পারে গাবতলা মোড়ের এই পানিটা একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিলাসবহুল গাড়ি ধোয়ার পানি জমে রাস্তায় ভরাট হয়ে গেছে এজন্য চলাচলের জন্য মানুষের কষ্ট হচ্ছে।এতে প্রতিদিন শ্রমিক, ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী এবং অসুস্থ রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রোববার ফজরের নামাজ শেষে সস্তাপুর গাবতলার মোড়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, সদর উপজেলার দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি গত কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমস্যায় ভুগছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকে এবং সেই পানি দীর্ঘ সময় ধরে সরতে চায় না। ফলে জনজীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, গাবতলার মোড়ের পিছনে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ খালটি বছরের পর বছর পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশনের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি ও ড্রেনের ময়লা জমে পুরো এলাকা জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে। এলাকাবাসীর দাবি, একটি বেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে দ্রুত খালটি পরিষ্কার করা হলে সস্তাপুর গাবতলা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব।
তারা আরও জানান, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও কাবিখা প্রকল্পসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগতে ভুগতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
অন্যদিকে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ভয়াবহ পরিবেশ দূষণও এলাকাবাসীর জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাবতলা এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়টি অবৈধ ডাইং কারখানা গড়ে উঠেছে, যেখান থেকে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে। এসব কারখানা থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের কারণে ইতোমধ্যে শিশু ও বৃদ্ধসহ কয়েকজন মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি এই এলাকার তিনজন ব্যক্তি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হওয়ায় মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এছাড়া সদর উপজেলা রোড সংলগ্ন এলাকায় কিছু অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনের পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যায় এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও জরুরি চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারী রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসছে। এখনই যদি খাল পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আসন্ন বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং বৃহত্তর সস্তাপুর এলাকার হাজার হাজার মানুষ মারাত্মক দুর্ভোগে পড়বেন।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য Abdullah Al Amin এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত খাল খনন ও পরিষ্কার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ ডাইং কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে সস্তাপুর গাবতলা এলাকার দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ থেকে মানুষ মুক্তি পাবে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা পাবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : A H M Hafizul Bari

কমেন্ট বক্স
রূপগঞ্জের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলে

রূপগঞ্জের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলে