মাদারীপুরে আলমগীর হত্যার বিচার দাবিতে থানা ঘেরাও
প্রতিনিধি মাদারীপুর
মাদারীপুরে আলোচিত আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সদর থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে সদর মডেল থানার সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশ নেন কয়েক শ মানুষ।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এটি পুলিশ সুপারের কার্যালয় হয়ে সদর মডেল থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে আলমগীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
১০ মার্চ সকালে আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করেন তাঁর প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তাঁর ডান হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। হামলাকারীরা তাঁর ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
নিহত আলমগীর হাওলাদার মাদারীপুর পৌরসভাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকার মৃত হাফেজ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুনশি হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পরও মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাঁরা এখনো প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু হাওলাদার ও ২ নম্বর আসামি জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব কামরুল হাওলাদার৷ তাঁদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আলমগীরকে হত্যা করেছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আগামী দিনে কঠোর আন্দোলনের ডাকও দেওয়া হবে।
মাদারীপুরে হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রতিপক্ষের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট
মামলার বাদী ও নিহত আলমগীরের স্ত্রী রেখা আক্তার অভিযোগে বলেন, ‘আমার স্বামীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাভলু ও কামরুল হাওলাদারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। তাঁদের আসামি করে মামলা করেছি। তবুও পুলিশ আসামিদের ধরতে পারছে না।’
এদিকে থানার সামনে বিক্ষোভ ও অবরোধ চলার সময় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি বলেন, আলমগীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। মামলায় অন্তর্ভুক্ত কোনো আসামিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
A H M Hafizul Bari