মঙ্গলবার সকালে যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা নির্বাচনের আগেই বিরোধী মত দমন এবং মা–বোনদের ওপর নির্যাতনে জড়ায়, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ কতটা নিরাপদ থাকবে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়। একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা, অন্যদিকে নারীদের লাঞ্ছিত করা—এ ধরনের দ্বিচারিতা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, আদর্শিক প্রচারণায় বাধা দেওয়া হলে এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে নারীদের হয়রানি করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নতুন ফ্যাসিবাদী শক্তি গণভোটের বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে ফ্যাসিবাদ, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটবে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন চায়। গণভোটে জনগণের সমর্থন না পেলে সরকার গঠন করে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশজুড়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। বেকার ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে বেকারদের দক্ষ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। নারীদের জন্য পৃথক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণশৌচাগার নির্মাণ এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার আশ্বাস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনস্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। এই দেশে জনগণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে—পরিবার বা গোষ্ঠীর নয়।
নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার হলেও জামায়াত মানুষের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে।
জনসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
A H M Hafizul Bari